বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সুস্থতা আল্লাহর একটি নেয়ামত। আবার অসুস্থতাও নেয়ামত। যদি অসুস্থতার সময় সবর করা যায় তাহলে সফলতা, সবরে ব্যর্থ হলে আল্লাহর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া।

মহান আল্লাহ বলেন “আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।”২:১৫৫

আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩]

অসুখ বিসুখে যাদের অনেক ভয় তারা আল্লাহর নবী আইয়ুব(আ:) কাহিনী থেকে প্রেরণা নিতে পারেন। যার পুরো শরীর প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু তিনি কখনো আল্লাহর স্মরণ ওর শুকরিয়া থেকে গাফেল হননি, যিনি আল্লাহর রোগ ব্যাধির পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

আল্লাহ অসুখ দিবেন। সেই অসুখে বান্দা আল্লাহমুখী হবে। এটাই কাম্য, কিন্তু বর্তমানে যেনো অসুখ, ডাক্তার, টেস্ট, ওষুধ, ফার্মেসি আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে বিশেষ করে আমাদের দেশে!

আমরা কোরআন, সুন্নাহ বিরোধী কাজে আমাদের শরীরটাকে ফিট রাখতে পারছিনা, কিছু হলেই ডাক্তারের কাছে ছুটে যাচ্ছি, না হয় নিজেই ওষুধ কিনে খাচ্ছি। চারিদিকে ভেজাল, বিষাক্ত খাবার তারপরও এইসব খাবার এমন ভাবে ৩-৪ বেলা পেট ভরে খাচ্ছি যেন এইগুলা খাবার জন্যেই আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।

আকস্মিক মৃত্যু বেড়ে গেছে, এমন এমন রোগ সমাজে ছড়িয়ে গেছে যা অতীতে খুবই কম ছিল, একেকটা রোগের পিছনে রোগীর বছরের পর বছর লক্ষ্য-কোটি টাকা যাচ্ছে, মানুষ হারাম কামাই করে(কিছু মানুষ বাদে) এই জন্যে ব্যাংকে টাকা জমাচ্ছে যে ভবিষ্যতে অসুস্থ হলে খরচ করবে!

এই লেখাটির উদ্দেশ্য এই সকল ব্যাপারে কোরআন, হাদিস, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ(সা:) ও সাহাবীদের জীবনের আলোকে কিছু আলোচনা করা, নির্দেশ মোতাবেক চললে আমাদের অসুখ বিসুখ ইনশা আল্লাহ অনেক কম হবে আর হলেও সেটা হবে আল্লাহর একটা রহমত-স্বরূপ। আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ লেখাটা ধর্য্য সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। লেখায় ইসলামের বিভিন্ন সহীহ রেফারেন্স ও বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে আমার কিছু চিন্তা ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করবো ইনশা আল্লাহ।

এই ব্যাপারে কেনো আলোচনা করছি

১. আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত যাকাত ও সাদাকার খাত গুলো

ভূমিকাতেই বলে ফেলেছি অনেকটা। আমি দেখলাম আমি যেকোনো সাদাকা করতে যাচ্ছি বা যাকাত দিতে হবে এমন অবস্থায় সামনে বেশির ভাগ অসুস্থ মানুষকে পাচ্ছি। এতো অসুস্থ অসহায় মানুষ যে তারাই অন্য কারো আগে সাহায্য পাওয়ার হকদার। কিন্তু আল্লাহ সূরা তাওবার ৬০তম আয়াতে সাদাকা ও যাকাতের খাত গুলোকে এভাবে ভাগ করেছেন
“সাদাকাহ হচ্ছে শুধুমাত্র গরীবদের এবং অভাবগ্রস্তদের, আর এই সাদাকাহর (আদায়ের) জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং (দীনের ব্যাপারে) যাদের মন রক্ষা করতে (অভিপ্রায়) হয় (তাদের), আর গোলামদের আযাদ করার কাজে এবং কর্জদারদের কর্জে (কর্জ পরিশোধে), আর জিহাদে (অর্থাৎ যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য) আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে। এই হুকুম আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, অতি প্রজ্ঞাময়।”(মুজিবুর রহমানের অনুবাদ থেকে)

এখানে আল্লাহ চিকিৎসার জন্যে কোনো খাত রাখেননি। আমি বলছিনা যে এখন আমি অসুস্থ অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করবোনা বা তাতে নেকি হবে না। কিন্তু আল্লাহ কেন চিকিৎসা সাহায্যের জন্য কোনো খাত রাখলেননা।

লক্ষ্য করুন: আল্লাহ কেন কি বলেছে সে ব্যাখ্যা করার ধৃষ্টতা আমি করছি না। আমি শুধু আমার মনে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটা আমার এই ব্লগের মাধ্যমে শেয়ার করছি ও ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করছি।

হতে পারে সেই যুগে এতো বড় বড় ডাক্তার, হাসপাতাল, উন্নত টেস্টের প্রযুক্তি, অপারেশন, সার্জারি এসব ছিলোনা। আমরা এই যুগে এসব ব্যাপারে অনেক উন্নতি করে ফেলেছি! কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান যত এগিয়েছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে মানুষের অসুস্থতা। এখন আকস্মিক হার্ট এটাক, কিডনি ফেইল, স্ট্রোক, ডায়বেটিস, হেপাটাইটিস, হরেক রকম ক্যান্সার এই আধুনিক যুগে যেন কোনো ব্যাপারই না। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের আয়ু ষাট থেকে সত্তর বছরের মধ্যে, কম লোকই এ বয়স অতিক্রম করে।(তিরমিযী ২৩৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ )
অর্থাৎ, কেয়ামত পর্যন্ত উম্মতের বয়স গড়ে ষাট থেকে সত্তর বছরের মধ্যেই থাকবে তা চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন। কিন্তু এই ব্যাপক উন্নতির ফলে কাজের কাজ যেটা হয়েছে তা হলো আমাদের জীবনের অর্ধেক এখন কাটছে বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে, ডাক্তার, টেস্ট, চিকিৎসা ব্যায়ের টাকা যোগাড় ইত্যাদি করে।

তো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চিকিৎসা খাতে কোনো সাদাকা বা যাকাতের কথা বললেননা তার একটা কারণ হতে পারে মুমিন কোরআন, সুন্নাহ মেনে চললে এতো বেশি অসুস্থ হওয়ার কথা ছিলোনা, আর অসুস্থ হলেও ধর্য্য ধারণ, আল্লাহর কাছে দোআ করা, সুন্নাহ ভিত্তিক যে চিকিৎসা গুলো আছে সেগুলোর মাধ্যমে আরোগ্যের চেষ্টা করা উচিত ছিল।

২. রাসূল(সা:) এর মানবসৃষ্ট ঔষধের প্রতি বিতৃষ্ণা

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশী রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি। [1] [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭০, আহমাদ ২৫৪৫৩]

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। কেননা যে কোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে পড়ে।
Visit Dar-us-Salam.com Islamic Bookstore

রাসূল (সা:) এত রোগাক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ওষুধের প্রতি একটা বিতৃষ্ণা ছিল যেটা উনার মৃত্যুর কিছুদিন আগের একটা ঘটনা থেকে বোঝা যায়:
রাসূল সা: রোগের প্রকোপে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। অনেকে উনাকে দেখতে ভিড় করেন। সবাই রাসূলুল্লাহ(সা:) কে “লাদুদ” নামক ওষুধ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিলো।
আব্বাস রা: বললেন “আমি তাকে অবশ্যই লাদুদ খাওয়াবো।”
শেষ পর্যন্ত উনাকে(সা:) লাদুদ খাওয়ানো হলো এবং তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলেন।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাকে এই জিনিস কে খাইয়েছে?” সবাই বললো,
“ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনার চাচা(আব্বাস রা:) খাইয়েছেন।” রাসূলুল্লাহ সা: বললেন
“এটা হাবশার দিক থেকে আগত কিছু মহিলার আনীত এক ধরণের ওষুধ। তোমরা কেন এটা আমাকে প্রয়োগ করলে? ”
আব্বাস রা: বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা আশংকা করেছিলাম যে, আপনি ফুসফুস প্রদাহে আক্রান্ত হয়েছেন” রাসূলুল্লাহ(সা:) বললেন,
“ঐ রোগে আল্লাহ আমাকে কখনো আক্রান্ত করবেন না। আমার পরিবারের মধ্যে আমার চাচা ছাড়া আর কেউ এই লাদুদ থেকে রেহাই পাবে না। “(অথাৎ যারা উনাকে লাদুদ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সবাইকে যেকোন শাস্তি-স্বরূপ এই লাদুদ খেতে হবে।)
মায়মুনা(রা:)কে রোযা অবস্থায় লাদুদ সেবন করতে হয়েছিল। এভাবে রাসূল(সা:) ওই ভুল কর্মের জন্যে সবাইকে শাস্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।

আমি এই ঘটনার মাধ্যমে কোন ফতোয়া দিতে চাচ্ছি না যে ওষুধ খাওয়া মাকরূহ বা এরকম কিছু। কিন্তু রাসূল (সা:) জানতেন
” আল্লাহ্‌ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।”(বুখারী)

সকল প্রতিরোধ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ মধ্যে আছে। আবার রোগ যদি হয়েও যায় তার জন্য সবর, দোআ ও প্রাকৃতিক প্রতিষেধক যেমন মধু, কালোজিরা, সোনা পাতা,মেথি, তুলসী, দুধ, হিজামা এরকম আরো হাজারো প্রতিষেধক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সরাসরি প্রকৃতিতে দিয়েছেন।এই ব্লগে এসকল প্রতিরোধকারী সুন্নাহ ও প্রাকৃতিক প্রতিষেধক গুলোর ব্যাপারে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।

আজকে আমরা আল্লাহর দেয়া ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন এসব সরাসরি খাদ্য থেকে না নিয়ে এগুলোর কেমিক্যালযুক্ত ট্যাবলেট বানিয়ে খাচ্ছি। জ্বর হলে প্যারাসিটাল, এন্টিবায়োটিক, ব্যথা হলে রাসূলুল্লাহর সেখান দোআ বাদ দিয়ে পেইনকিলার খাচ্ছি। এসব ছোট ছোট কারণে ওষুধ খেতে খেতেই একসময় ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে একসময় বড় অসুখ হচ্ছে, তখন ওষুধের পাওয়ার অনেক গুন্ না বাড়িয়ে আর কোনো উপায় থাকে না। রাসূল (সা:) আজ বেঁচে থাকলে এসব দেখে কি বলতেন আমি শুধু তাই ভাবি।

৩. প্রকৃতিতে সরাসরি আল্লাহর ওষুধের বিপুল সম্ভার

আমি(কোনো এক সাহাবী ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে দেখলাম তাঁর সাহাবীদের মাথার উপর যেন পাখী বসে আছে, অর্থাৎ শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি সালাম দিয়ে বসলাম। অতঃপর এদিক-সেদিক হতে কিছু বেদুঈন এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? তিনি বলেন, তোমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করো; কেননা মহান আল্লাহ একমাত্র বার্ধক্য ছাড়া সকল রোগেরই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন।(সুনানে আবু দাউদ, চিকিৎসা অধ্যায়)

” আল্লাহ্‌ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।”(বুখারী)

ইসলামিক পথ্য

আল্লাহ সব রোগের ওষুধ যদি সৃষ্টি করেই থাকেন তো আমরা কেন এতো কেমিকেল ওষুধ খাচ্ছি, এতো ইনজেকশন নিচ্ছি। আমরা কি একটু ধর্য সহ আল্লাহর দেয়া ওষুধ গুলো প্রয়োগ করতে পারিনা। এছাড়া দোআ আছে, রুকইয়াহ আছে, হিজামা সহ আরো আল্লাহর বরকতী চিকিৎসা আছে। ইনশা আল্লাহ প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আপনারা এই বইগুলো থেকে অনেক সুন্নাহ চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারবেন। নিঃসন্দেহে এগুলো মানবসৃষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে উত্তম

ইসলামিক পথ্য : উন্নত জীবনের চাবি বইটি এখানে পাবেন

 

islamic diet

আত-তিব্বুন নববী

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর বিখ্যাত কিতাব আত-তিব্বুন নববী। বইটির বাংলা অনুবাদ কিছুদিনের মধ্যেই ইনশা আল্লাহ প্রকাশিত হবে। আমি নিজেও এটার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বই পরিচিতি থেকে কিছু কথা

প্রয়োজনের তাগিদে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও ঔষধ ব্যবহার করেছেন এবং বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন শারীরিক ও আত্মিক অসুস্থতার চিকিৎসা প্রদান করেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রচিত চলমান গ্রন্থটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিভিন্ন সময়ের দেয়া বিভিন্ন চিকিৎসা পরামর্শের সামগ্রিক রূপ। যেখানে বিভিন্ন রোগের মৌলিক কারণ, অসুস্থ হওয়ার পথ রুদ্ধ করা বিভিন্ন প্রতিষেধক এবং ঔষধ এর সহজ পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন পদ্ধতির পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূলের ঐশী পদ্ধতিতে প্রাপ্ত চিকিৎসা পদ্ধতির সামনে তা কোন অবস্থানই রাখে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্ভুল চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকরিতা অনস্বীকার্য ও নজিরবিহীন। আল্লাহ রাসূলের দেখানো চিকিৎসা পদ্ধতির সম্মিলিত রূপের এই গ্রন্থটি একদিকে যেমন অসুস্থ ব্যক্তিদের হাতের নাগালে বিভিন্ন কার্যকরি ঔষধ এর সন্ধান দিবে পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও গবেষকগণের সামনে চিকিৎসা জগতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। পাঠকদের জন্য এতে রয়েছে উন্নত চিকিৎসা চারিত্রিক উন্নত আদর্শ ও আত্মিক সাধনার এক ভান্ডার।

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান – অসাধারণ এই বইটি এখান থেকে ফ্রি পড়ুন 

হিজামা

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে রক্তমোক্ষণ(হিজামা) হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা।(সুনানে আবু দাউদ)

আজওয়া খেজুর

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুরখাবে, সেদিন কোন ধরনের বিষ ও যাদু তাকে ক্ষতি করবে না।(সুনানে আবু দাউদ)

সুগন্ধি কাঠ

উম্মু ক্বায়িস বিনতু মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তার আলজিভ ফুলে ব্যথা হওয়ায় আমি তাতে মালিশ করেছিলাম। তিনি বললেনঃ আলজিভ ফোলার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের গলায় চাপ দিয়ে তাদের কষ্ট দিচ্ছো কেন? তোমরা উদ হিন্দী ব্যবহার করো; কেননা সাত প্রকার ব্যাধিতে তা উপকারী। শিশুদের আল্‌জিভ ফুলে ব্যথা হলে তা ঘষে গুড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নাকের ভেতর ফোটায় প্রবেশ করাবে এবং ফুসফুস আবরক ঝিল্লীর প্রদাহ হলেও এভাবে তা পান করাতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ ঊদ(কাঠ) হলো এক প্রকার সুগন্ধি কাঠ। (সুনানে আবু দাউদ)

সুরমা

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও; কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ সুরমা; কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতার চুল গজায়।

মধু

তিন জিনিসে রোগমুক্তি নিহিতঃ মধুপানে, রক্তমোক্ষণে এবং তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণে। তবে আমার উম্মাতকে আমি তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করতে বারণ করেছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট এসে বললঃ আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ হয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার আসলে তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। অতঃপর তৃতীয়বার আসলে তিনি বললেন তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি এসে বললঃ আমি অনুরূপই করেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্‌ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু পান করাও। অতঃপর সে তাকে পান করাল। এবার সে রোগমুক্ত হল। (সহিহ বুখারী )

তালবিনা

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অপ্রিয় কিন্তু উপকারী বস্তুটি তোমরা অবশ্যই গ্রহণ করবে। তা হলো তালবীনা অর্থাৎ হাসা (দুধ ও ময়দা সহযোগে প্রস্তুত তরল পথ্য)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসা-এর পাতিল চুলার উপর থাকতো, যতক্ষণ না রোগী সুস্থ হতো অথবা মারা যেত। (সহীহুল বুখারী , মুসলিম, তবে আলবানী হাদিসটি দুর্বল বলেছেন )

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি রোগীকে এবং কারো মৃত্যুজনিত শোকাহত ব্যক্তিকে তরল জাতীয় খাদ্য খাওয়ানোর আদেশ করতেন। তিনি বলতেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যে, ‘তালবীনা’ রোগীর কলিজা মযবূত করে এবং নানাবিধ দুশ্চিন্তা দূর করে।(সহীহুল বুখারী)

কালোজিরা

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা এই কালো বীজ (কালোজিরা) নিজেদের জন্য ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করে নাও। কেননা, মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের নিরাময় এর মধ্যে রয়েছে। ‘আস-সাম’ অর্থ ‘মৃত্যু’। (সহীহ তিরমিযী , ইবনে মাজাহ , বুখারী, মুসলিম)

চন্দন কাঠ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ভারতীয় এই চন্দন কাঠ ব্যবহার করবে। কেননা তাতে সাতটি আরোগ্য রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোঁয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়, পাঁজরের ব্যথা বা পক্ষাঘাত রোগ দূর করার জন্যও তা ব্যবহার করা যায়।(সহিহ বুখারী )

আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর উপর ভরসা না করা ঈমানের ঘাটতি

তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে আল্লাহর উপরেই ভরসা কর।” [সূরা মায়েদা- ২৩]

“মু’মিনগণ যেন একমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করে।” [সূরা তওবা- ৫১]

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হবেন।” [সূরা ত্বলাক- ৩]

“যখন তুমি দৃঢ়ভাবে ইচ্ছা করবে, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ ভরসা কারীদের ভালবাসেন।” [সূরা আল ইমরান- ১৫৯]

আমরা মুখে সবাই বলি সুস্থতা দেয়ার মালিক আল্লাহ, বাঁচাতে পারে আল্লাহই কিন্তু কথাগুলো যেন শুধু মুখেই থেকে যায়। অন্তর থেকে বের হয়না।

ডাক্তার যদি বলে নিয়মিত হাটতে, ধূমপান না করতে, অমুক অমুক খাদ্য থেকে, অমুক খাবার না খেতে তাহলে আমরা তা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। পরিবার, বন্ধু বান্ধব সবাই সেটা মানতে তাগাদা দেয়। বড় ডাক্তার হলে তো কথাই নেই।

কিন্তু আমাদেরকে যিনি বানিয়েছেন, আমাদের জন্য কোনটা ভালো কোনটা পরিতেজ্য যিনি সবচেয়ে বেশি জানেন, সেই কাজ গুলো করলে শুধু এই দুনিয়ার জীবনেরই না আছে পরকালের জীবনে আছে অনন্ত অসীম পুরস্কার। আর এর বিপরীতে আছে জাহান্নামের, কবরের ভয়াবহ আযাব যা ঈমানের ঘাটতি থেকেই শুরু, ঈমান কমতে কমতে অন্যের উপর ভরসা করতে করতে শয়তান আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকে, তা পর্যায়ক্রমে বাড়তেই থাকে। এই অবস্থায় যদি মৃত্যু চলে আসে তাহলে ঈমান থাকার কোনো গ্যারান্টি আছে কিছু।

আমার কথা গুলো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে কিন্তু মনে করেন, আপনি আমেরিকার পিএইচডি ধারী বিখ্যাত কোনো ডাক্তারের কাছে গেলেন তখন আপনার ভরসা কার উপর বেশি থাকবে আল্লাহর উপর না ডাক্তারের উপর। ডাক্তার যদি বলে ধূমপান ছাড়তে, আপনি তা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, যদি বলে সকালে ১ ঘন্টা হাটতে তাও করবেন, রাত ৩টার সময় কোনো ওষুধ খেতে বললে তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। অথচ, আপনার এই বিশ্বাস থাকা উচিত ছিল যেই সর্বক্ষমতাময় আল্লাহর উপর যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর বিধানের মধ্যেই সব কল্যান আছে। বিজ্ঞানের দ্বারাও ইসলামের সকল বিধান মানুষের কল্যান্যের ব্যাপার পরীক্ষিত। তার বিধান গুলো এরকম অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারলে নিজেরই লাভ, মহান আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, তিনি আমাদের স্বার্থেই সকল বিধান দিয়েছেন।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (র:) বলেন: কোন মাখলুকের কাছে যে ব্যক্তি আশা করবে এবং তার উপর ভরসা করবে, তার উক্ত ধারণা নি:সন্দেহে বাতিল হবে এবং সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর সে হবে মুশরিক।

রোগ আরোগ্যের জন্য, শরীর সুস্থ রাখার জন্য ইসলামের শত বিধান আছে, রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ আছে, সেগুলোর প্রতি আমাদের চরম অবহেলা ধীরে ধীরে আমাদের বে-ঈমানির দিকে থেকে দিচ্ছে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত অন্যান্য পর্বগুলোতে আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ

চলুন নিচে ইসলামের কিছু বিধান মানুষের অসুখ বিসুখ কিভাবে বিদায় করে দিতে পারে তা আলোচনা করি

রোগ-ব্যাধি হওয়ার কিছু কারণ ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিরোধ

আমার ধারণা মতে অসুস্থতার যে কয়টি পয়েন্ট আছে তা নিয়ে আলোচনা করলাম, আরো কোনো পয়েন্ট থাকলে, আমাকে জানানোর অনুরোধ রইলো, আমি পোস্ট পরে আপডেট করে দিবো ইনশা আল্লাহ

খাবারের মাধ্যমে

খাবারের মাধ্যমেই অসুস্থতা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে আমাদের দেশে ভেজাল খাবারের সাথে যোগ হয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যে ভেজাল বা বিষের কারণে মানুষ বড় বড় রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এটা প্রায় সবাইকেই বলতে শোনা যায়, কিন্তু এর প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রতিকার থাকলেও পুরো পরিবার বাচ্চা-কাচ্চাসহ এই বিষ খেতে কারোই তেমন কোনো আপত্তি দেখা যায় না।

কি করবেন? ভেজাল ছাড়া খাবার পাবেন কোথায়? যারা জানেন না, এই লেখাতেই তার সমাধান পাবেন ইনশা আল্লাহ। শুধু কষ্ট করে পুরোটা পড়বেন।

তার আগে খাবার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ গুলো জেনে নেই, যা মানলে রোগ ইনশা আল্লাহ এমনিতেই নাই হয়ে যাবে, সর্ব শক্তিমান আল্লাহর রহমত তো আছেই।

উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৬১)

(উঁচু স্বরে) বিসমিল্লাহ পড়া।(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৭৬)

হেলান দিয়ে বসে না খাওয়া।(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৯৮)

গরম খাবার ঠান্ডা হ’লে খেতে শুরু করা: আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘ভাপ না চলে যাওয়া পর্যন্ত কোন খাবার খাওয়া উচিত নয়’।[বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/১৯৭৮]

নবীজি(সা:) দুধ ও মাছ  কখনো একসঙ্গে খেতেন না, তেমনি দু’টি গরম, দু’টি ঠাণ্ডা, নরম বা আঠালো জিনিসও একসাথে খেতেন না। তিনি অত্যধিক গরম ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলতেন

খাবার শেষে আঙ্গুল ও প্লেট চেঁটে খাওয়া : যখন তোমাদের কেউ খাবার খাবে আঙ্গুল চেঁটে না খেয়ে হাত মুছবে না। কেননা সে জানে না যে, কোন খাবারে বরকত আছে’।[মুসনাদে আহমাদ হা/১৩৮০৯; মুসলিম হা/২০৩৩; ইবনু মাজাহ হা/৩২৭০।] অন্য বর্ণনায় আছে, শেষের খাবারে বরকত নিহিত আছে।[নাসাঈ, ইবনু হিববান হা/১৩৪৩]

এই হাদিস গুলোকেই অধিকাংশই অনেক হালকা ভাবে নেই। ভাবি এগুলো খাওয়ার সাধারণ আদব। কিন্তু এগুলো যে রাসূলুল্লাহর(সা:) মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত সুন্নাহ তা ভাবি না। এগুলা এক একটা সুন্নাহ বড় বড় হাসপাতাল, বড় ডাক্তারের কাছে লক্ষ্য কোটি টাকার চিকিৎসা থেকেও অধিক উপকারী, অধিক কার্যকর, এই ঈমান আমাদের রাখতে হবে। কোরআন ও সুন্নাহ মুসলমানের অমূল্য সম্পদ, এটা মানার মধ্যে আমাদেরই লাভ, আল্লাহর লাভ-ক্ষতি কিছুই এর মধ্যে নেই।

‘পেট অপেক্ষা নিকৃষ্টতর কোন পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য ততটুকু খাদ্যই যথেষ্ট যতটুকুতে তার পিঠ সোজা থাকেআর যদি এর চেয়ে বেশী খেতেই হয়, তাহলে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করে’।[তিরমিযী হা/২৩৮০; ইবনু মাজাহ হা/৩৩৪৯; হাকেম ৪/১২১]

অনেকে সরাসরি বলে থাকি যে, পেটকে তিন ভাগ করে খাওয়া সুন্নাহ; এক ভাগে খাবার, আরেক ভাগে পানি আর আরেক ভাগ খালি। খেতে বসলেই সর্বদা এভাবে খেতেই অনেকে পছন্দ করে। আর যারা দীন মানার ধার ধারে না তাঁদের তো কথাই নেই।

এ হাদীসে প্রথমেই উদর ভর্তি করে খাওয়ার প্রতি অনুৎসাহিত করা হয়েছে। কয়েক লোকমা খাবারেই পিঠ দাঁড় করে রাখা সম্ভব। আর বাস্তবেও তাই। তবে এরপরের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে, কারো যদি কোনো কারণে বেশি খেতেই হয় সে তিন ভাগ করে খেতে পারে। হররোজ আমরা সূচনাতেই যেভাবে তিন ভাগের প্রতি মন দেই সে বিষয়টা এখানে প্রমাণিত হয় না।

আমরা আসলে কেন বেশি খাই? এটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে বলে। আশে পাশের সবাই খাচ্ছে, বাসায় খাচ্ছে, রেস্টুরেন্টে খাচ্ছে, রাস্তার পাশের ভ্যান গাড়ি

থেকে খাচ্ছে, টং দোকান থেকে খাচ্ছে, বড়লোকরা(এমনকি মধবিত্তরাও) এমন সব দামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাচ্ছে যে খাবার গুলোর আমাদের কোনোই প্রয়োজন নেই, শুধু দুনিয়ার মজা নিতে আর অপচয় করতেই এই খাওয়া।

Poor man dhaka

আল্লাহ বলছেন
“নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।” (বানী ইসরাঈল-২৭)

এই ছবির লোকটার পায়ের ঘাম মাটিতে ফেলা এক মাসের আয় সম্ভবত নিচের ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টের কারো এক বেলা খাবারের বিলের সমান হবেনা

এটা যদি অপচয় না হয় তাহলে কোনটা অপচয়

 

restaurant menu Dhaka

যাই হোক বলছিলাম, এই বিলাসী খাবার দাবারের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই, এতে স্বাস্থঝুঁকি আরো অনেক বেড়ে যায়, বড়লোকের হয় বড় বড় রোগ।

আমাদের যদি ঈমান সেই পর্যায়ের থাকতো, যে আমরা সমস্ত ভোগ বিলাস ইনশা আল্লাহ জান্নাতে যেয়ে করবো, প্রচুর খাবো আরো কত কি মজা করবো, কোনো রকম সমস্যাই হবে না। দুনিয়ার এই অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবন কোনোমতে কম কম খেয়ে, আল্লাহর বিধি নিষেধ মেনে, মুসাফিরের মতো পার করে দিতে পারলেই ব্যাস, আমাদের আর পায় কে।

মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আখিরাতের মুকাবেলায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় এবং ( তা বের করে ) দেখে যে,  আঙ্গুলটি সমুদ্রে কতটুকু পানি নিয়ে ফিরেছে।” (মুসলিম ২৮৫৮,  আহমাদ ১৭৫৪৭,১৭৫৪৮)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদিন চাটাই –এর উপর শুলেন। তারপর তিনি এই অবস্থায় উঠলেন যে, তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি (আপনার অনুমতি হয়, তাহলে) আমরা আপনার জন্য নরম গদি বানিয়ে দিই।’ তিনি বললেন, “দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক? আমি তো এ জগতে ঐ সওয়ারের মত যে ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রামের জন্য গাছের ছায়ায় থামল। পুনরায় সে চলতে আরম্ভ করল এবং ঐ গাছটি ছেড়ে দিল।” (তিরমিযী ২৩৭৭, ইবনু মাজাহ ৪১১৬৯)

তাহলে কি কারণে আমাদের এতো পরিমান খাওয়া দাওয়া। আল্লাহর উপর যদি ঈমান নাও থাকে তও আমাদের মানতে হবে শরীর সুস্থ রাখতে বর্তমানে কম খাওয়া ও বুঝে শুনে খাওয়া আবশ্যক। এই বিষাক্ত খাবারের যুগে তো নাস্তিকরাও এই সুন্নাহ মেনে খেতে বাধ্য।
খাওয়ার প্রয়োজনীয় সুন্নাহ গুলো এই লিংক থেকে জেনে নিন

কোনো দুর্ঘটনার কারণে

অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার কারণে মানুষ প্রচুর অসুস্থ হয়। সেটা সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারি, মলম পার্টি বা কোনো উত্তেজনার হার্ট এট্যাক বা ব্রেইন ফেইলিউর অনেক কিছুই হতে পারে।

এসকল কিছু থেকে বাঁচতে অত্যন্ত কার্যকর উপায় হচ্ছে সব সময় অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ ও দুআ, কোরআনকে অন্তরে লালন করা।
বিশেষ করে সকাল সন্ধ্যার কিছু দোআ আছে রাসূলুল্লাহ(সা:) প্রতিদিন সেগুলো পড়তেন। এগুলো সারাদিন আপনাকে আল্লাহর জিম্মায় রাখবে, সকল দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকবেন ইনশা আল্লাহ।

নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার দুআ গুলো এখান থেকে দেখে নিন  

এখানে ১টা দিলাম

আবুল ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ দু’আ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ হতে, আমি আপনার নিকট হতে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ হতে এবং অতিবার্ধক্যহতে। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শাইত্বানের প্রভাব হতে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হতে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রানীর দংশনে মৃত্যুবরণ হতে।” (সুনানে আবু দাউদ)

এছাড়াও এখান থেকে দেখুন

বংশানুক্রমে ও বার্ধক্যের কারণে

বংশে কোনো রোগ থাকলে তার জন্যে উপরের দুটা পয়েন্ট সুন্নাহ মোতাবেক খাদ্যাভ্যাস ও দুআ প্রযোজ্য হবে। প্রতিনিয়ত দোআ করবেন, বেশি বেশি কোরআন পড়বেন ইনশা আল্লাহ।

খারাপ বার্ধক্য থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন। খারাপ বার্ধক্য থেকে বাঁচতে এই দুআ গুলো আমাদের জন্যে যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা ও বার্ধক্য হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই ক্ববরের শাস্তি হতে এবং আশ্রয় চাই জীবন ও মরণের বিপদাপদ হতে”। (সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।)

 “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ হতে, আমি আপনার নিকট হতে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ হতে এবং অতিবার্ধক্যহতে। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শাইত্বানের প্রভাব হতে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হতে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রানীর দংশনে মৃত্যুবরণ হতে।” (সুনানে আবু দাউদ)

হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা,বার্ধক্যও কবরের ‘আযাব হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার আত্মাকে সংযমী করো ও একে পবিত্র করো। তুমিই শ্রেষ্ঠ পুতঃপবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও রব। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঐ জ্ঞান লাভ হতে আশ্রয় চাই, যে জ্ঞান (আত্মার) কোন উপকারে আসে না, ঐ অন্তর হতে মুক্তি চাই যে অন্তর তোমার ভয়ে ভীত হয় না। ঐ মন হতে আশ্রয় চাই যে মন তৃপ্তি লাভ করে না এবং ঐ দু‘আ হতে, যে দু‘আ কবূল করা হয় না। (মুসলিম)

“আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ্‌র জন্য। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে রব্ব! এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু কল্যাণ আছে আমি আপনার নিকট তা প্রার্থনা করি। আর এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অকল্যাণ আছে, তা থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আযাব হওয়া থেকে এবং কবরে আযাব হওয়া থেকে।(রাসূলুল্লাহ (সা:) বিকালেও এই দুআ পড়তেন তখন সকালের জায়গায় বিকাল বা সন্ধ্যা বলতেন )[ মুসলিম]

বংশে পাগলামি থাকলে

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ছত্রাক হলো ‘মান্ন’ নামক আসমানী খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং তার পানি চক্ষুরোগের নিরাময়য়। ‘আজওয়া’ হলো জান্নাতের খেজুর এবং তা উন্মাদনার প্রতিষেধক।(আবু দাউদ, মিশকাত)

আল্লাহর পরীক্ষা স্বরূপ, পাপের কারণে ও গুনাহ মাফের উসিলা হিসেবে

এই বিষয়ে আগেই আলোচনা করেছি। আল্লাহ পরীক্ষা স্বরূপ রোগ ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট দিয়ে থাকেন। বান্দা গুনাহ করলে দুনিয়াতেই যাতে এর ফয়সালা হয়ে যায়, আখিরাতে শাস্তির মুখে না পরে সে জন্যেও রোগ ব্যাধি দিয়ে থাকেন

মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩]

এজন্য পাপ থেকে সাধ্যমতো বেঁচে থাকতে হবে, ইস্তিগফার করতে হবে। ধর্য্য ধারণ করতে হবে। কোরআন হাদিসে ধর্যের ব্যাপারে প্রচুর তাগাদা ও দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। সঠিক সময়ে ধর্য না ধরতে পারলে পুরো জীবন ও আখিরাত ব্যর্থ হয়ে যাবার সমূহ সম্ভবনা থাকে।

বদনজর, জ্বীন, জাদু

বদনজর, জ্বীন, কালো জাদু, ঝাড় ফুঁক(রুকইয়াহ শারইয়্যাহ) ইত্যাদি সত্য। এগুলো সব সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, এগুলো যদি অস্বীকার করেন তো ঈমান থাকবে না।

বদনজরের, জাদুর কারণে অসুস্থ হয়ে সাধারণ ডাক্তারের গেলে উনারা আপনার নানা দাঁত ভাঙা টেস্ট করতে দিবে। কিন্তু আপনার প্রকৃত অসুস্থতা কি কিছুই বুঝবে না। চিকিৎসাও হবে ভুল। তাই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

রুকইয়াহ শারইয়্যাহ অনেক ব্যাপক আলোচনা। এই ব্যাপারে বিস্তারিত এই লিংকে পাবেন

চিকিৎসার জন্য টাকা জমালে

এই পয়েন্টটা একটু অন্যরকম লাগতে পারে কিন্তু এটাই বাস্তবতা।
আমরা অসুস্থ না হলেও ভবিষ্যতে অসুস্থ হলে কিভাবে এতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা করবো সেকারণে টাকা জমাই। প্রয়োজনে হারাম কামাই করে জমাতেও পিছপা হইনা। এর পরিনাম কি, নিচের ফেসবুক পোস্টটা আমার ভালো লেগেছে, সেটা থেকেই তুলে দিলাম

অনেকে সঞ্চয় করে বিপদের কথা মাথায় রেখে – আমি যদি বিপদে পড়ি তাহলে এ টাকাটা আমার কাজে লাগবে।
ব্যাপারটা এমন যেন, আপনি যেচে গিয়ে বিপদকে ডেকে আনছেন।
কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বিখ্যাত
‘ইন্নামাল ‘আমালু বিন নিয়্যাহ’ হাদিসের পরের বাক্যটিতেই বলেছেন,
‘ইন্নামা লিকুল্লিম রিইম মা নাওয়াহ।’
অর্থাৎ সে তেমনটাই পাবে যেমনটা সে ইচ্ছে করেছিল।
সঞ্চয় ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।
কিন্তু আপনি কেন টাকা জমাচ্ছেন সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস করে নিন।
হজ্বের জন্য টাকা জমালে আল্লাহ আপনাকে হজ্ব করার তাওফিক দেবেন।
আপনি যদি আপনার গ্রামের বাড়িতে একটা মাসজিদ বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সেই উদ্দেশ্যে অল্প করেও টাকা জমান, দেখবেন আল্লাহ ঠিকই আপনাকে দিয়ে একটা মাসজিদ তৈরি করে নিয়েছেন।
আপনার বেতন অল্প – কিন্তু খুব ইচ্ছা কুরবানি করার? প্রতিমাসে অল্প করে টাকা জমান – দেখবেন ঈদের সময় পশু কেনার পয়সা হয়ে গিয়েছে।
অবিবাহিত ভাইদের উচিত বিয়ের মোহরের জন্য, ওয়ালিমার জন্য টাকা জমানো।
আপনি ভালো কাজের নিয়াহ করে টাকা জমান। আল্লাহ আপনাকে সেই ভালো কাজের নিয়ত পূর্ণ করে দেবেন।
আপনি অভাবের জন্য টাকা জমালে সম্ভাবনা আছে আল্লাহ আপনাকে সেই অভাবে ফেলবেন।
যারা অসুস্থ হওয়ার কথা চিন্তা করে টাকা জমান – দেখা যায় তাদের অনেকের কাছ থেকে হসপিটালের বিল বাবদ ওই টাকাটা আল্লাহ বের করে নেন।
বিপদ আল্লাহই দেন। বিপদ থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে আল্লাহর কাছে দু’আ করা। তাঁকে বলা,
“মালিক, আমার জমানো টাকাটা আপনি আপনার জন্য, ভালো কাজ খরচ করার সামর্থ্য দেন। অসৎ, অসাধু, স্বার্থপর লোকদের পেটে যেন আমার এই হালাল টাকা না যায়।”

দেখবেন, আল্লাহ আপনাকে হিফাজাত করবেন, আপনার আয়ে বারাকাহ দেবেন এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য থাকায় নিতান্ত দুনিয়াবি কাজের মাধ্যমেও আল্লাহ আখিরাতে আপনাকে পুরষ্কৃত করবেন।

সূত্র: https://www.facebook.com/shorobor.bd/photos/a.458045457664960/1412300528906110/

ওষুধের কারণে

ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত সেবনে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, শরীর ওষুধ নির্ভর হয়ে যায়। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিক সেবনে আমরা এক ভয়াবহ অন্ধকার ভবিষ্যতে পতিত হতে যাচ্ছি। বিস্তারিত জানতে নিচে ভিডিওটি দেখুন ও আর্টিকেলটি পড়ুন

একটা ভয়ঙ্কর কথা

অসুস্থতার আরো কিছু কারণ

পয়েন্ট গুলোর সাথে লিংক দেয়া আছে, বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

রাতে দেরি করে ঘুমানো/বাতি জ্বালিয়ে ঘুমানো/সকালে দেরি করে ওঠা

উপর হয়ে ঘুমানো

বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে

বিলাসিতা

হার্ট ব্লকের কারণ সয়াবিন তেল

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ব্যবহৃত রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া গেছে

ভেজাল খাদ্যের কিছু নমুনা

‘ফিটফাট’ রেস্তোরাঁয় পচাখাবার
হাঁস মুরগি ও মাছের খাবারে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম
বোতলজাত, প্যাকেটজাত, প্রক্রিয়াজাত আর পরিশোধিত খাবার কেড়ে নিচ্ছে আমাদের প্রাণশক্তি, জীবনীশক্তি
খাদ্য হিসেবে আপনি প্রায় প্রতিদিন খাচ্ছেন এন্টিবায়োটিক

মাছ ও সবজিতে ফরমালিন, বেকারির অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য, মসলায় রঙ, ইট ও কাঠের গুঁড়া, বিষাক্ত এনার্জি ড্রিংক ও জুস, ফলে কেমিক্যাল, মুড়িতে ইউরিয়া, নকল দুধ

‘ঢাকায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’

ভেজালহীন খাবার কোথায় পাবো

এই মহা গুরুত্বপূর্ণ হাদীসটি আরো একবার দেই
‘পেট অপেক্ষা নিকৃষ্টতর কোন পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য ততটুকু খাদ্যই যথেষ্ট যতটুকুতে তার পিঠ সোজা থাকে। আর যদি এর চেয়ে বেশী খেতেই হয়, তাহলে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করে’।[তিরমিযী হা/২৩৮০; ইবনু মাজাহ হা/৩৩৪৯; হাকেম ৪/১২১]

অর্থাৎ আমরা কম কম খেলে, অনেক ভেজাল খাবার এমনিতেই বাদ হয়ে যায়। রেস্টুরেন্টের খাবার, বোতলজাত, প্যাকেটজাত, প্রক্রিয়াজাত ইত্যাদি নানা অহেতুক অপ্রয়োজনীয় বিলাসী খাবার সুন্নাহ মোতাবেক চললে বাদ হয়ে গেলো।
বিলাসী খাবার যদি খেতে ইচ্ছেই করে ঘরেই প্রয়োজনে বানালেন।

বাকি থাকে প্রয়োজনীয় খাবার। একটু খুঁজলে, চেষ্টা করলেই বর্তমানে ভেজালহীন খাবার পাওয়া যায় আলহামদুলিল্লাহ। বিশেষ করে আমার ভরসা আমাদের দ্বীনি ভাইদের কিছু প্রতিষ্ঠানের উপর। যারা আল্লাহকে ভয় করে, আমি চোখ বন্ধ করে তাদের উপর ভরসা করি। নিচে কিছু লিস্ট দিলাম, মানুষের লাইন দিয়ে এদের কাছ থেকে পণ্য কেনা দরকার ছিলো, অথচ মানুষ সব কিছুতে ভেজাল বলে আফসোস করে কিন্তু বিশুদ্ধ খাবার কোথায় পাওয়া যায় একটু খুঁজেও দেখে না ! কিভাবে তারা ভেজালহীনতা নিশ্চিত করে? একটু কষ্ট করে তাদেরকেই জিজ্ঞেস করে নিন।

১. সবুজ উদ্যোগ: আমি সবুজ উদ্যোগের নিয়মিত ক্রেতা। কোনো বিজ্ঞাপন দিচ্ছি না। যা সত্য তাই, এখানে পাবেন ভেজালহীন অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য। যার মধ্যে আছে চাল, আটা, ডিম, ডাল, মুড়ি, মধু, মাছ, মুরগি, মওসুমি ফল, মসলা গুঁড়া, নানা ওষুধি গুঁড়া

সবুজ উদ্যোগ এর সম্পূর্ণ পণ্যতালিকা

যোগাযোগ: https://www.facebook.com/sabujudyog/

২. সরোবর: আমি এখান থেকেও কিনি। বিশস্ত একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। এখানে পাবেন তালবিনা, বিভিন্ন রকম মশলা গুঁড়া, তেল, খেজুর, দুধ, সস ইত্যাদি সহ নানা রকম পুষ্টিকর খাদ্য

https://shorobor.biz/

৩. গাঁয়ের স্বাদ: রাজধানীর উত্তরায় উনাদের আউটলেট। খুব সম্ভবত সরোবরের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। আমার ঠিক জানা নেই। কিন্তু সরোবর ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ভেজালমুক্ত খাবার এখানে পাওয়া যায়। মশলা, দই-মিষ্টি, মাছ, শুঁটকি, চিংড়ি, গরু ও মুরগির গোশত, দুধ, ডিম সহ আরো অনেক কিছু। অনলাইনেও অর্ডার নেন।

https://www.facebook.com/GayerShaad/

৪.  খাস ফুড: খাস ফুডের নাম অনেকেই হয়তো শুনেছেন, এটাও ভেজাল মুক্ত খাদ্যের একটি বিশ্বস্ত নাম, ঢাকায় রয়েছে অনেক গুলো আউটলেট। এখানেও পাবেন শুঁটকি, চাল, আটা, চিনি, মশলা, ডিম, দুধ, গোশত, চা পাতাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছু

https://khaasfood.com/

এছাড়াও বাসীরা, মা’আরিজ, রাহমা, ওয়াহ্দা, দুক্কান, তাজা ফল(এটা কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান না) সহ আরো নানা রকম ভেজালহীন খাদ্য এখন হাতের মুঠোয়। এগুলো সত্ত্বেও কি অন্নান্ন জায়গা থেকে বিষ কিনে খাবেন? নিজে খাবেন আবার সন্তানকেও খাওয়াবেন!

বিশুদ্ধ পানি

বিশুদ্ধ পানির ব্যাপারে এই পোস্টে আলোচনা করেছি। সবাইকে দেখে আসার আমন্ত্রণ রইলো

বিশেষ উপহার

বিশেষ উপহার
বিশেষ উপহার

আমার ব্লগের পাঠক যারা এই পোস্ট সংক্ষিপ্ত রিভিউ সহ(কেমন লাগলো তা জানিয়ে) ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে শেয়ার দিবেন, তাদের মধ্যে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১ জনকে নিচের বইটি উপহার দিবো ইনশা আল্লাহ । বইটি কারো থেকে থাকে তাহলে সমমূল্যের অন্য বই দেয়া হবে। শেয়ার করার পর আপনার ফেসবুক প্রোফাইল লিংক ও ইমেইল আইডি দিতে ভুলবেন না

endtimexyz (at) gmail.com

আলহামদুলিল্লাহ, পোস্টটি শেষ করতে যাচ্ছি, কেউ দ্বীন বিরোধী কোনো বক্তব্য পেয়ে থাকলে বা কোনো সাজেশন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানানোর এবং পরবর্তী পর্ব গুলো পড়ার আমন্ত্রণ রইলো

ডা: মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ডাক্তার ইসলাম পর্ব ২