বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ওষুধপত্র ছাড়াই শুধুমাত্র আল্লাহর বিধান মেনে সুস্থ ও ফিট থাকা – ডাক্তার ইসলাম পর্ব ১ পড়তে ক্লিক করুন

ওষুধপত্র ছাড়াই শুধুমাত্র আল্লাহর বিধান মেনে সুস্থ ও ফিট থাকা – ডাক্তার ইসলাম পর্ব ১

কম খাওয়ার সুন্নাহর মধ্যে আছে শেফা

ডা: মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর কবির বর্তমানে দেশি ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়, ভাইরাল একজন মানুষ। উনি নিজের সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে একটি মৃতপ্রায় সুন্নাহকে এই দেশে জীবিত করছেন।

মানুষ এখন ৩ – ৬ বেলা বাচ্চা কাচ্চাসহ আনন্দের সাথে বিষ খাচ্ছে। সকালের নাস্তা, বেলা ১১-১২ টার নাস্তা, দুপরের খাবার, বিকালের নাস্তা, রাতের খাবার আরো কত কি। বাইরের খাবার সেটা দামি রেস্টুরেন্ট হোক বা টঙের দোকান হোক সেটা অধিকাংশই ভেজাল সেটা আমরা প্রথম পর্বে আলোচনা করেছি। ভেজাল ছাড়াও যদি হয় এতো ঘন ঘন খাওয়া শরীর নিতে পারেনা। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ(সা:) বলেন

‘পেট অপেক্ষা নিকৃষ্টতর কোন পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য ততটুকু খাদ্যই যথেষ্ট যতটুকুতে তার পিঠ সোজা থাকে। আর যদি এর চেয়ে বেশী খেতেই হয়, তাহলে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করে’।[তিরমিযী হা/২৩৮০; ইবনু মাজাহ হা/৩৩৪৯; হাকেম ৪/১২১]

এ ব্যাপারে ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবির স্যারের বক্তব্য

 

হালাল ও পবিত্র বস্তু খাও | নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংস করোনা

আর আল্লাহ তোমাদেরকে যা দান করেছেন তন্মধ্য হতে হালাল ও পবিত্র বস্তুগুলি আহার কর, এবং আল্লাহকে ভয় কর – যাঁর প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।[সূরা আল-মায়েদা ৮৮]

“তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসে পতিত করোনা”[সূরা বাক্বারাহ ১৯৫]

উপরের আয়াতটি সাধারণত সিগারেটের ক্ষেত্রে বলা হয়, সিগারেট ক্ষতিকর, ধীরে ধীরে শরীর নিঃশেষ হয়, এটা হারাম তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা ভালো বলে যেই খাবার গুলো খাই সেগুলো কি? চলো ডা: জাহাঙ্গীর কবিরের মুখে শুনে আসি

রোজা ও অটোফেজি

শরীরের কোষগুলো বাইরে থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই যখন নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে ,তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকে অটোফেজি বলা হয়।আরেকটু সহজভাবে বলি? আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে ,অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে , তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি  করে ডাস্টবিন আছে।সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে ,ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সময় পায় না

আমাদের শরীরের নষ্ট হয়ে যাওয়া বা অসুস্থ কোষগুলোকে পরিষ্কার করাটা জরুরি।  অটোফেজি ক্যানসার হওয়া থেকে বিরত রাখে, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে, পারকিনসন ডিজিজ প্রতিরোধ করে এছাড়াও নানা উপকারে আসতে পারে!

সতর্ক হোন

সচেতন মুসলিমরা জানেন শুধু না খেয়ে থাকার নাম রোজা না, এখানে আরো অনেক কিছু জড়িত। আর কোনো অবস্থাতেই ডায়েট কন্ট্রোল বা অটোফেজির নিয়তে রোজা রাখবেননা। আপনি সকাল সন্ধ্যা না খেয়ে ডায়েট করেন কিন্তু রোজার নিয়তে করবেননা যদি আপনার আসল টার্গেট হয় শারীরিক সুবিধা নেয়া । রোজা বা যে কোনো ইবাদাতের নিয়ত হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।

আমি ডা: জাহাঙ্গীর কবিরের সাথে এই ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করি, তিনি ডায়েট কন্ট্রোলের উদ্দেশ্যে মুসলিমদেরকে রোজা রাখার পরামর্শ দেন। আমি আশা করবো এই ব্যাপারে তিনি অভিজ্ঞ আলেমদের সাথে আলাপ করবেন।

একমাস রোজা রেখেও কেনো আমরা উপকার পাইনা

এর কারণ হলো রোজার ফরজ আমার পালন করি কিন্তু সেখানেও ইফতার, রাতের খাওয়া, সাহরীতে যেই হারে দূষিত জিনিস পেট পুড়ে খাই, তাতেই রোজার ফজিলত বিনষ্ট হয়। এব্যাপারে ডাক্তার সাহেবও বলেছেন। দয়া করে ভিডিও গুলো দেখে নিবেন।

এই দূষিত তেল, দোকানের দূষিত, প্যাকেটজাত খাবার এইগুলা পরিহার করতে না পারলে রোজার যে সম্পূর্ণ শারীরিক রিজেনারেশন বা অটোফেজি হওয়া সম্ভব না। তারপরও রোজার মাসে আল্লাহর রহমতে অনেক অসুখ বিসুখ থেকে মুক্ত থাকি।

শরীরে যত কম খাবার দিবেন টোটো ভালো থাকবেন ইনশা আল্লাহ। আর যখন খাবেন পুষ্টিকর, ১০০% হালাল, পবিত্র খাবার খাবেন।

রাতের খাবার ঘুমানোর অনেক আগে শেষ করার সুন্নাহ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের রাতের খাবার উপস্থিত করা হলে এবং ‘ইশার সলাতের ইক্বামাত দেয়া হলে খাবার শেষ না করে সলাতে যাবে না। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে বা রাতের খাবার আনা হলে তিনি আহার শেষ না করে কখনও সালাতের জন্য উঠতেন না। এমনকি ইক্বামাত বা ইমামের কিরাআত শুনতে পেলেও তিনি আহার শেষ না করা পর্যন্ত উঠতেন না।[সুনানে আবু দাউদ – ৩৭৫৭]

এ হাদিস পড়ে আবার সবসময় খাওয়ার কারণে এশার সলাতে দেরি করবেন না দয়া করে, সালাফদের আহার আমাদের মতো ভুরিভোজন ছিলোনা, এ প্রসঙ্গে একটা আসার

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উবাইদ ইবনু উমাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরের (রাঃ) সময় আমার পিতার সঙ্গে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের (রাঃ) নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন ‘আব্বাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর বললেন, আমরা শুনেছি, রাতে আহারকে সলাতের উপর (অর্থাৎ আগে খেয়ে নেয়ার) অগ্রাধিকার দেয়া হতো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি মনে করেছ আগেকার লোকদের রাতের আহার তোমার পিতার রাতের আহারের অনুরূপ ছিল?

ডা: জাহাঙ্গীর কবিরের পরামর্শ অনুযায়ী কিভাবে সহজে কম খাওয়ার অভ্যাস করবেন ও রোগ মুক্ত হবেন

সুস্থতা দেয়ার মালিক শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। কিন্তু আমাদেরকে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে।

সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোআ করুন। সুস্থতার অনেক দোআ আছে যেগুলো ১ম পর্বে আলোচনা করেছি ,দরকার হলে আরো একটা পোস্ট শুধু দোয়ার উপরে করবো।

কেউ যদি ১০০% সুন্নাহ পদ্ধতিতে ডায়েট করতে চান

আমি প্রথম পর্বে ১০০% সুন্নাহভিত্তিক যেভাবে সুস্থ থাকা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু সেটা নিয়ে কারো তেমন আগ্রহ নেই। তাই এবার একজন ডাক্তারের সাজেশন নিয়ে পোস্ট দিলাম। কিন্তু কেউ যদি ১০০% যেটা সন্দেহাতীত তার উপর থাকতে চান তাহলে ডায়েট বিষয়ে নবীজি(সা.) এর মারাত্মক দুইটা প্রেসক্রিপশন রয়েছে:
১। সকালে বা দুপুরে যখনি খান কয়েক লোকমা/গ্রাস খেয়ে উঠে যাবেন, একটু মোটা লাল আটার রুটি/ভাত, সবজি/গোস্ত। তাই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ
২। আর একটু বেশি যদি খেতে হয় পেটকে তিনভাগ করে একভাগ খাবেন, মানে ক্ষিদা রেখে খাবার শেষ করবেন, মানে ক্যালরী ইনপুট কম দেয়া। একভাগ পানি খাবেন আর একভাগ খালি রাখবেন।
৩।সপ্তাহে দুইদিন + মাসের মাঝের তিন দিন সিয়াম রাখা, শরীরকে অটোফেজির সুযোগ করে দেয়া।

শেষ কথা(অবশ্যই পড়বেন)

একবার চিন্তা করুন ইনশা আল্লাহ আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন, আপনার বৃদ্ধ বাবা মা, প্রিয় সন্তান, স্ত্রী, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন সবাই সুস্থ থাকতে পারবেন।

কেয়ামতের আলামত গুলো নিয়ে এখন অনেক বেশি আলোচনা হচ্ছে, আমরা শেষ সময়ের অনেক কাছে অবস্থান করছি, তা যদি নাও হয় নিজের জীবনের শেষ প্রান্তের কাছে আমরা সব সময়ই থাকি।
এই মুহূর্তে শরীর ফিট রাখা অনেক বেশি দরকার। এখন এই ভাঙাচোরা, মেদভর্তি শরীর নিয়ে, আত্মীয়-স্বজন একটার পর একটা অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করার সময় না।

খলিফা মাহাদী চলে আসলে, তাঁর কাছে বায়আত দেয়া এবং তাঁর আনুগত্য করা আমাদের জন্য ফরজ হবে। তখন শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট থাকতে হবে। যে কোনো সময় পুরো বিশ্বে যুদ্ধ লাগতে পারে, খাবার সংকট দেখা দিতে পারে, দুর্ভিক্ষ লাগবে, জিনিসপত্রের দামও আকাশ ছোয়া হয়ে যাবে।

আমরা যদি পদক্ষেপ নেই এই ফিতনা থেকে আল্লাহই আমাদের রক্ষা করবেন। আর যদি এখনো অলসতা পরিত্যাগ না করি, অসুস্থ খাদ্যাভ্যাস চালু রাখি, সুস্থ, ফিট থাকার চেষ্টা না করি তাহলে কাল অবস্যই আল্লাহর কাছে ধরা খেতে হবে।

আমার কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান।